Saturday, 7 March 2015

হাতের লেখা

ব্যাপার খেয়াল করলাম ক'মাস আগে - হাতের লেখাটা একদম গেছে। হাত কাঁপছে, টানগুলো ঠিকঠাক হচ্ছে না। জিনিষটা এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে নিজের হাতের লেখা নিজেই চিনতে পারছি না। কিন্তু কি বাদশাহি আমলটাই না ছিল! কতরকমভাবে লিখতে পারতাম। কতজনের হাতের লেখা নকল করে, তাতে নিজের কায়দাকানুন মিশিয়ে নতুন 'ক্যালিগ্রাফি' আমদানি করতাম। বসন্ত-টসন্তর পরোয়া না করে কাগজে কাগজে ফুল ফুটত বারোমাস। কতরকম কালি, কতরকম পেন, কত ছিরিছাঁদ। কিছুদিন আগে বুঝলাম সে সময় অস্ত গেছে। পেনের দাম যত চড়ছে, তত নামছে হাতের লেখার মান। ক'গাছা চুল দিয়ে টাক ঢাকার কায়দায় এখন বুলিয়ে বুলিয়ে লেখা দাঁড় করাতে হয়, নয়ত সেদিকে তাকাতে নিজেরই লজ্জা করে। যতই বেঁকিয়ে, চুরিয়ে, ওপরে ধরে, নিবের কাছে পাকড়ে, মোটা পেন কিনে, সরু জেল দিয়ে চেষ্টা করি না কেন, ফাইনাল আউটপুট যে-কে-সেই! কাউকে তিন লাইন নিজে হাতে লিখে দিতে গেলেই বুক ধড়ফড় - কি ভাববে কে জানে। হয়ত রোজ দু'পাতা করে লিখলে খানিকটা শোধরাবে ব্যাপারটা, কিন্তু সে হয়না। কুঁড়েমো আর কি!

       আমাদের স্কুলে বেশ রসিক একজন বাংলার স্যর ছিলেন। আমার হাতের লেখা দেখে বলেছিলেন, কেরিয়ারে বিশেষ সুবিধে না করতে পারলে আমি যেন একটা গাছতলা দেখে কাগজকলম নিয়ে বসে যাই। ভাড়ায় প্রেমপত্র-টত্র লিখে দু'পয়সা করতে পারব।  সে পথ চিরতরে বন্ধ।

       এসব হয়েছে ব্যাটা কম্প্যুটারের জন্য। এ যন্ত্র এমন এক কৃত্রিম পারফেকশানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে যে হাতের যেকোন কাজ গ্যালারি পেরিয়ে মাঠের বাইরে। 

       সি পি এম বলেছি কম্প্যুটার লোকজনের চাকরি খাবে। সেটা হয়নি বটে, তবে আমার হাতের লেখাটি খেয়ে একদম হজম করে ফেলেছে।